Friday , 20 September 2019
এই মাত্র পাওয়া
Home » অপরাধ » নির্মাণকাজে দুর্নীতি থামছে না

নির্মাণকাজে দুর্নীতি থামছে না

 

অনলাইন ডেক্সঃ

দেশের সরকারি-বেসরকারি স্কুল-কলেজ নির্মাণ ও সংস্কারের নামে শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের কতিপয় প্রকৌশলী ও কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বিরুদ্ধে দুর্নীতি ও অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। এসব প্রকৌশলীরা সিন্ডিকেটের মাধ্যমে সারাদেশে অসৎ ঠিকাদারদের যোগসাজশে অনিয়ম ও দুর্নীতি করে আসছে। দেশের বিভিন্ন এলাকায় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান নির্মাণে স্থানীয় বাসিন্দা ও জনপ্রতিনিধিদের হাতে এসব দুর্নীতির প্রমাণ ধরা পড়ে। এতে সারাদেশে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। চলতি বছরের গত জুলাই মাসে সিলেটের ওসমানীনগরের গোয়ালাবাজারে রড ছাড়াই কলেজ ভবন নির্মাণে প্রমাণ পেয়েছে স্থানীয় প্রশাসন। গত ১ জুলাই শনিবার সিলেট-২ আসনের সংসদ সদস্য ও জাতীয় পার্টির কেন্দ্রীয় যুগ্ম মহাসচিব ইয়াহিয়া চৌধুরী এহিয়া ঘটনাস্থল গোয়ালাবাজার আদর্শ মহিলা কলেজ ভবন নির্মাণ রড ছাড়া করার সত্যতা পান। সাড়ে ৩ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মাণাধীন কলেজের কাজ সরেজমিন পরিদর্শনে গিয়ে সাংসদ নতুন ভবনের একাংশ (পিলার) ভেঙে দেখতে পান, রড ছাড়াই নির্মাণ হচ্ছে বহুতল ভবন। তিনি সংশ্লিষ্ট ৩ জনকে হাতেনাতে আটক করলেও এক ঠিকাদারসহ কয়েকজন পালিয়ে যায়।
সংসদ সদস্য ইয়াহিয়া চৌধুরী এহিয়া স্থানীয় সাংবাদিকদের জানান, কলেজ ভবন নির্মাণে রড তো নেই-ই, বাঁশ পর্যন্ত দেয়া হয়নি পিলারে। এর চেয়ে বড় দুর্নীতি, অনিয়ম, লুটপাট আর কী হতে পারে। নির্মাণাধীন চারতলা ভবনের প্রথম ও দ্বিতীয় তলায় কক্ষের দেয়ালের পিলার ও লিন্টার রড ছাড়াই ঢালাই করা হয়েছে। শুধু তা-ই নয়, ভবনের অন্যান্য কাজে ব্যবহৃত হয়েছে নিম্নমানের মালামাল। কাজে এমন অনিয়মের সত্যতা পাওয়ার পর তিন ও চারতলার ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান শাহ আলম এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকারী শাহ আলম ও তার দুই সহযোগী পংকি ও লোকমানকে আটক করে ওসমানীনগর থানা পুলিশের হাতে তুলে দেওয়া হয়। তবে এ ঘটনার পর ভবন তদারকিতে দায়িত্বপ্রাপ্ত শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের উপসহকারী প্রকৌশলী তাজুল ইসলাম উক্ত অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। শুধু গোয়ালাবাজার কলেজ নয় এভাবে রাজধানীসহ সারাদেশে হাজার হাজার স্কুল-কলেজসহ শিক্ষা-প্রতিষ্ঠান নির্মাণ ও সংস্কারের নামে ভয়াবহ দুর্নীতি ও কোটি কোটি টাকা লুটপাটের অভিযোগ রয়েছে। প্রতিষ্ঠানটির শীর্ষপর্যায়ের ব্যক্তিরা এতে জড়িত থাকারও অভিযোগ রয়েছে। এতে একদিকে যেমন সরকারি অর্থ অপচয় ও লুটপাট হচ্ছে তেমনি যথাযথ সুযোগ-সুবিধা থেকে বঞ্চিত ও ভবন নিয়ে ঝুঁকির মধ্যে পড়েছে সংশ্লিষ্টরা।
জানা গেছে, শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের প্রকৌশলীরা সারাদেশে সরকারি-বেসরকারি স্কুল-কলেজ নির্মাণ ও সংস্কারকাজ নিয়ন্ত্রণ করছেন। কোনো প্রকার নিয়ম-নীতির তোয়াক্কা না করে কমিশন বাণিজ্যের মাধ্যমে সিন্ডিকেট নিজেদের পছন্দমত ব্যক্তি এবং আত্মীয়-স্বজনদের প্রতিষ্ঠানকে কাজ পাইয়ে দেয়া হয়। অসাধু কর্মকর্তাদের বেপরোয়া কমিশন বাণিজ্য ও স্বেচ্ছাচারিতায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছে শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তর এবং ঢাকা জোনাল অফিসের কর্মকর্তা-কর্মচারীরাও। রাজধানীতে শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের উন্নয়নকাজ সম্পর্কিত মাঠপর্যায়ের প্রকৌশলীদের গত ১২ আগস্ট এক অনুষ্ঠানে শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ শিক্ষা অবকাঠামো নির্মাণে কোনো দুর্নীতি সহ্য করা হবে না বলে হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন। শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের কর্মকর্তাদের আরও সততা ও দক্ষতার সাথে কাজ সম্পাদন করতে হবে বলে জানান। আর আগামী বছরের মধ্যে মাধ্যমিক বিদ্যালয়, মাদরাসা, কলেজ ও পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে সাড়ে উনিশ হাজার ভবন নির্মাণ সম্পন্ন হবে বলে তিনি জানিয়েছেন। এসকল কাজ এ অর্থবছরের মধ্যেই সম্পন্ন করতে হবে। এক্ষেত্রে কোনো গাফিলতি করা যাবে না। সরকারি প্রতিষ্ঠানটিতে কয়েকজন প্রভাবশালী প্রকৌশলী সিন্ডিকেট করে দুর্নীতির পাহাড় গড়ছেন। মাঠপর্যায়ে কাজের বাস্তবায়নে নির্ধারিত সিন্ডিকেটের লোকজন রাখা হয়। ফলে অধিকাংশ মেরামত ও সংস্কার কাজই হয় লোক দেখানো। এছাড়া নতুন যেসব নির্মাণকাজ হচ্ছে তাও অত্যন্ত নিম্নমানের। কোথাও রডের পরিবর্তে বাঁশ দিয়ে নির্মাণকাজ করানো হচ্ছে, আবার কোথাও রড বা বাঁশ ছাড়াই শুধু সিমেন্ট-বালি দিয়ে কাজ সম্পন্ন করা হচ্ছে। এসব ঘটনা ফাঁস হয়ে যাওয়ার পর সিন্ডিকেটের প্রধান নিজে বাঁচার জন্য অন্য প্রকৌশলীদের ওপর দোষ চাপানোর চেষ্টা করছেন বলে নাম প্রকাশ না করার শর্তে একাধিক ব্যক্তি জানিয়েছেন।

Leave a Reply