Friday , 15 November 2019
এই মাত্র পাওয়া
Home » অপরাধ » গাইবান্ধায় মসজিদের ইমামের রহস্যজনক মৃত্যু

গাইবান্ধায় মসজিদের ইমামের রহস্যজনক মৃত্যু

এইচ আর হিরু, গাইবান্ধাঃ

গাইবান্ধার সাদুল্লাপর উপজেলার আবুল কালাম আজাদ (৩৮) নামে মসজিদের এক ইমামের রহস্যজনক মৃত্যু হয়েছে। শনিবার বেলা ১১ টার দিকে পুলিশ তার লাশ উপজেলার ইদিলপুর ইউনিয়নের গোবিন্দরায় দেবত্তর গ্রামের একটি আম গাছ থেকে ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করেছে।

নিহত আবুল কালাম আজাদ একই ইউনিয়নের মহিপুর গ্রামর উত্তরপাড়া মৃত. ইসমাইল হোসেনের ছেলে। তিনি পার্শ্ববর্তী পলাশবাড়ী উপজেলার দূর্গাপুর গাবের দিঘি এলাকার জামে মসজিদে প্রতি শুক্রবার ইমামতি করতেন।

নিহতের মেয়ে জানয়,গত শুক্রবার (১৮ অক্টোবর) জুম্মার নামাজ পড়ানোর জন্য বেলা ১১টার দিকে বাড়ী থেকে বের হয়ে দূর্গাপুর গাবেরদিঘি এলাকার উদ্দেশ্যে রওনা হন। তারপর থেকে তার আর কোন সন্ধান পওয়া যাচ্ছিল না। শনিবার ভোরে এলাকাবাসী তার বাড়ীর ১ কিলোমিটার দূরে গোবিন্দরায় দেবোত্তর চ্যারেঙ্গা গ্রামে নবীর মাষ্টারের গাছের বাগানে একটি আম গাছের ডালের সাথে তার গলায় হাজি গামছা দিয়ে ফাঁস লাগানো ঝুলন্ত লাশ দেখতে পান। খবর পেয়ে পুলিশ তার লাশ উদ্ধার করে দুপুর ১টার দিকে ময়নাতদন্তের জন্য গাইবান্ধা সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠান।

নিহতের মেয়ে ফতেমা বেগম ও নিহতের স্ত্রী লাবনী বেগমের অভিযোগ, প্রায় ৮মাস আগে আবুল কালাম অভাবে পরে বন্ধুত্ব সম্পর্কের কারণে পলাশবাড়ী উপজেলার উদয়সাগর এলাকার কুখ্যাত দাদন/সুদ ব্যবসায়ী শাহারুলের নিকট থেকে ২০ হাজার টাকা ধার হিসাবে নিয়েছিলেন। কিছুদিন আগে সেই টাকা পরিশোধও করেন। কিন্তু পরবর্তীতে জানতে পারেন তাকে ওই টাকার সুদ দিতে হবে। গত বুধবার ১৬ অক্টোবর ওই ধারের সুদের লাভের টাকার জন্য শাহারুল তার সহযোগী শরিফুল ও মিলনসহ ৩ ব্যক্তি রাতে তাদের বাড়িতে এসে টাকার জন্য চাপ সৃষ্টি করে। তারা সুদের (লাভের) টাকা প্রদানের জন্য ইমাম আবুল কালামকে চাপ দেয়। কিন্তু ইমাম আবুল কালাম সুদের টাকা দিতে অপারগতা প্রকাশ করে। এতে দাদন ব্যবসায়ীরা ক্ষিপ্ত হয়ে তাকে প্রান নাশের হুমকি দিয়ে চলে যায়।

তারা আরও জানান, দূর্গাপুর গাবেরদীঘি এলাকায় জামে মসজিদে জুম্মার নামাজ পড়াতে যাবার জন্য ইমাম আবুল কালাম শুক্রবার (১৮ অক্টোবর) বেলা ১১টায় বাড়ী থেকে রওনা হন। কিন্তু সেখান থেকে বিকাল পযর্ন্ত বাড়ীতে ফিরে না আসায় তারা খোঁজ নিয়ে তার (ইমাম) ব্যক্তিগত মোবাইল ফোনটি বন্ধ পান। এরপর খোঁজ খবর নিয়ে জানতে পারেন, জামে মসজিদে যাবার পথে ওই দাদন ব্যবসায়ীরা তাকে তুলে নিয়ে গেছে। বিষয়টি ওই রাতেই পলাশবাড়ী উপজেলার মহদীপুর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান তৌহিদুল ইসলাম মন্ডলকে জানানো হয়।

তাদের দাবি, ওই দাদন ব্যবসায়ীরাই ইমাম আবুল কালামকে মেরে ফেলে লাশ বাড়ীর অদুরে আম গাছে লাশ ঝুলে রেখে গেছে। তার পরিবার এই হত্যার বিচার চান। উল্লেখ্য ওই ইমাম শুক্রবার মসজিদে ইমামতি করতেন এবং দৈন্যতার কারনে অন্যান্যদিন রাজমিস্ত্রি ও শ্রমিকের কাজ করে কষ্টে সৃষ্টে জীবন জীবিকা নির্বাহ করে সৎভাবে চলতেন। বিষয়টির সত্যতা স্বীকার করে মহদীপুর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান তৌহিদুল ইসলাম মন্ডল জানান, বিষয়টি তিনি তাৎক্ষনিক পলাশবাড়ী থানার ওসিকে মোবাইল ফোনে জানাই।

পলাশবাড়ী থানার ওসি মাসুদুর রহমান জানান, ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান তৌহিদুল ইসলাম মন্ডলের নিকট মোবাইল ফোনে বিষয়টি জানতে পেরে রাতেই সম্ভাব্য বিভিন্ন স্থানে খোঁজখবর নিয়ে ইমাম আবুল কালাম ও দাদন ব্যবসায়ী শাহারুলের কোন সন্ধান পাননি। গাইবান্ধার এ সার্কেল মোহাম্মদ আবদুল আউয়াল ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন এবং নিহতের বাড়ি গিয়ে পরিবারের সদস্যদের সান্তনা দেন এবং হত্যাকান্ড হলে জড়িত চিহ্নিতদের খুঁজে বের করে কঠোর শাস্তির ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে আশ্বাস প্রদান করেন।

সাদুল্লাপুর থানার ওসি মাসুদ রানা বলেন, ময়নাতদন্তের রির্পোট না পাওয়া পর্যন্ত তার এই মৃত্যুর কারণ সম্পর্কে কোন মন্তব্য করা যাচ্ছে না। এ ঘটনায় নিহতের পরিবার ও এলাকায় শোকের ছায়া নেমে আসে।

Leave a Reply