Tuesday , 20 August 2019
এই মাত্র পাওয়া
Home » অর্থনীতি » গাইবান্ধায় কোরবানির পশু নিয়ে বিপাকে খামারিরা

গাইবান্ধায় কোরবানির পশু নিয়ে বিপাকে খামারিরা

এইচ.আর.হিরু.গাইবান্ধাঃ
স্মরণকালের ভয়াবহ বন্যায় কোরবানির পশু নিয়ে বিপাকে পড়েছেন গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ . সাঘাটা.ফুলছড়ী.পলাশবাড়ী ও গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার খামারি ও কৃষকরা। যোগাযোগ ব্যবস্থা বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ায় তারা কোরবানির পশু বিক্রির জন্য জেলার বাহিরে নিয়ে যেতে পারছেন না। এমনকি বাহির থেকে ব্যবসায়ীরা গরু কিনতে আসতেও পারছেন না। অন্যদিকে দীর্ঘদিন হতে লালন পালন করা কোরবানির পশু গরু ও ছাগল আর ঘরে রাখা সম্ভব হচ্ছে না। তাছাড়া বন্যার কারণে চরাঞ্চলের খামারি ও কৃষকরা চাহিদামাফিক গো-খাদ্য যোগান দিতে পারছেন না। সব মিলে চরম সংকটে পড়ছেন তারা।

উপজেলার চরাঞ্চল হতে শতকরা আশি ভাগ কোরবানির পশু আমদানি করা হয়ে থাকে। সেই চরাঞ্চলগুলো বন্যার পানিতে এখন ভাসছে। চরের প্রতিটি পরিবারের একমাত্র সম্বল গৃহপালিত পশু-পাখি। সাধ্য অনুযায়ী চরবাসী গরু.ছাগল.ভেড়া.হাঁস, মুরগি ও কবুতর লালন পালন করে থাকেন। অনেকে বিভিন্ন বেসরকারি সংস্থার কাছ থেকে ঋণ নিয়ে গরু ও ছাগলের খামার দিয়েছেন। সেই চরবাসী এবারের বন্যায় গরু ও ছাগল নিয়ে মহাবিপাকে পড়েছেন।

সুন্দরগঞ্জে উপজেলার তারাপুর. বেলকা.হরিপুর. চন্ডিপুর. শ্রীপুর ও কাপাসিয়া ইউনিয়নের বিভিন্ন চরাঞ্চল ঘুরে দেখা গেছে. প্রতিটি পরিবারে রয়েছে ২ হতে ১০টি গরু ছাগল। নিজের শরীরের চেয়ে তারা গৃহপালিত পশু পাখির যন্ত বেশি নিয়ে থাকেন। কথা হয় কাপাসিয়া ইউনিয়নের বাদামের চরের করিম উদ্দিন.আনছার আলীর সাথে। তারা জানান প্রতিবছর কোরবানির ঈদে ২ হতে ৫টি গরু ও ৩ হতে ৬টি ছাগল বিক্রি করে থাকেন। এবার তার ৩টি গরু ও ২টি ছাগল রয়েছে। বন্যার কারণে ঠিকভাবে পরিচর্যা এবং খাবার দিতে না পারায় গরুর চেহারা অনেকটা কমে গেছে। সে কারণে দাম অনেক কমে যাবে। তাছাড়া বিক্রি না করে কোন উপায় নাই। তিনি বলেন. ‘প্রায় ১০ থেকে ১৫ হাজার টাকা কমে গরু ও ছাগল বিক্রি করতে হবে।

কঞ্চিবাড়ি ইউনিয়নের সখের বাজার গ্রামের শাহিনুর বেগমের খামারে রয়েছে ২০টি ষাঁড়। যার প্রত্যেকটির দাম প্রায় ৮০ হাজার হতে ১ লাখ ২০ হাজার টাকা হতে পারে। শাহিনুর ওই গ্রামের বাদশা মিয়ার স্ত্রী। বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা এসকেএস ফাউন্ডেশনের এমএম ডাবিøউ ডাবিøউ প্রকল্পের সদস্য শাহিনুর। তিনি সংস্থার সহায়তা নিয়ে খামার দিয়েছে। তিনি বলেন ‘বন্যার কারণে গরুর দাম অনেক কম হবে। লোকসান দিয়ে গরু বিক্রি করতে হবে।

উপজেলা ভেটেনারি সার্জন ডা. রেবা বেগম জানান. ‘চরের কৃষকরা প্রত্যেকে গরু ও ছাগল লালন পালন করে থাকে। গৃহপালিত পশু পাখি তাদের একমাত্র সম্বল। বছরজুড়ে গরু ও ছাগল লালন পালন করে কোরবানির ঈদে বিক্রি করে থাকেন চরবাসী। তবে বন্যার কারণে এবারে চরের গরুর দাম তুলনামুলক কম হতে পারে।

Leave a Reply