Tuesday , 20 August 2019
এই মাত্র পাওয়া
Home » রংপুর » গাইবান্ধার অহ্কার শ্রেষ্ঠ শিক্ষক নুরুল আলম

গাইবান্ধার অহ্কার শ্রেষ্ঠ শিক্ষক নুরুল আলম

এইচ.আর.হিরু.গাইবান্ধাঃ
বাংলাদেশে প্রথম কোনো সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষককে অবসর গ্রহণের পর রাষ্ট্রপতির আদেশে ৩ বছরের জন্য চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দেয়া হয়েছিল। আর এই বিরল কৃতিত্বের অধিকার যে ব্যাক্তি অর্জন করেছিলেন তিনি গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলার শিবরাম আদর্শ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রাক্তন প্রধান শিক্ষক নূরুল আলম। মো. নূরুল আলম ১৯৫১ সালে সুন্দরগঞ্জ উপজেলায় জন্মগ্রহণ করেন। ১৯৭৩ সালে এইচএসসি পাস করার পরই তিনি শিক্ষকতা পেশায় প্রবেশ করেন।
১৯৮৪ সালে শিবরাম আদর্শ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। দায়িত্ব গ্রহণের পর তিনি ওই বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটিসহ এলাকার জনসাধারণকে বিদ্যালয়ের উন্নয়নের সঙ্গে সম্পৃক্ত করতে সক্ষম হন। ফলে ওই বিদ্যালয়ের পড়াশোনার প্রভূত উন্নতিসাধিত হয়। তিনি ১৯৮৫ সালে জাতীয় পর্যায়ে শ্রেষ্ঠ শিক্ষক হিসেবে সরকারি পদক লাভ করেন। তাঁর ব্যক্তিগত উদ্যোগের কারণে এ বিদ্যালয়টি ও ম্যানেজিং কমিটি ২০০২ সালে জাতীয় পর্যায়ে শ্রেষ্ঠত্বের স্বীকৃতি অর্জন করেছে। সর্বাধিক ছাত্রছাত্রীর উপস্থিতির জন্য বিদ্যালয়টি ২০০৭ সালে জাতীয় পর্যায়ে শ্রেষ্ঠ বিদ্যালয় হিসেবে পুরস্কার লাভ করে। তাঁর নিরলস প্রচেষ্টায় বিদ্যালয়টি দেশের একটি অন্যতম শ্রেষ্ঠ প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পরিণত হয়েছে। গাইবান্ধা জেলার সুন্দরগঞ্জ উপজেলার নিভৃত পল্লীর শিবরাম আদর্শ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়কে তিনি সত্যিকারের আদর্শ বিদ্যালয়ে পরিণত করে জাতীয় পর্যায়ে আলোচনার বিষয়বস্তুতে পরিণত করেছেন। তার বিএ, এমএ বা পিএইচডি-এর মতো কোনো উচ্চ ডিগ্রি না থাকলেও তিনি সত্যিকারের শিক্ষিত হয়েছিলেন।
পরিবার থেকে একটা শিশু যখন কোনো শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ভর্তি হয় তখন সে সব সময় তার শিক্ষকের আদর্শকে অনুসরণ করার চেষ্টা করে। বাবা-মায়ের পরে যাকে সে সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য মনে করে সে হলো তার শিক্ষক। আর এ শিক্ষক শুধু তার ছাত্রের কাছেই আদর্শ নন সে ছাত্রের বাবা-মা তথা গোটা সমাজের কাছেই আদর্শ। তিনি যে শিক্ষা পেয়েছেন তা সারা জীবন তার ছাত্রদের মাঝে, সমাজের কাছে বিলিয়ে দেয়ার চেষ্টা করে যাচ্ছেন।তিনি যেন সারা জীবন এভাবে সমাযে শিক্ষার আলো ছড়াতে পারেন তার প্রতি রইল অনেক অনেক শুভকামনা।

Leave a Reply