Sunday , 17 November 2019
এই মাত্র পাওয়া
Home » অর্থনীতি » গাইবান্ধায় সিগারেট সংকটে বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে সিগারেট

গাইবান্ধায় সিগারেট সংকটে বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে সিগারেট

এইচ আর হিরু, গাইবান্ধাঃ
গাইবান্ধায় বাজেট উপস্থাপনের দুই দিন আগে থেকেই বাজারে সিগারেট সংকট দেখা দিয়েছে। মূল্য বৃদ্ধির অজুহাতে বাজেট ঘোষণার আগে থেকেই বাজার থেকে বিভিন্ন ব্র্যান্ডের সিগারেট উধাও হয়ে যায় এমন অভিযোগ পাওয়া গেছে, পাইকার ও এজেন্টরা এসব সিগারেট স্টক করে রেখেছে।
গতকাল ১৩ জুন বৃহস্পতিবার সকালে বাজেট অধিবেশনের পূর্বে থেকেই ব্রিটিশ টোব্যাকো কোম্পানির বিভিন্ন ব্র্যান্ডের সিগারেট যেমন- বেনসন, গোল্ডলিফ, স্টারফিল্ডারসহ সব সিগারেট সরবরাহে সংকট দেখিয়ে স্থানীয় এজেন্টরা সিগারেটের মূল্যবৃদ্ধি করেছে বলেও অনেক ক্রেতা অভিযোগ করেছেন।

গাইবান্ধার সাত উপজেলার বিভিন্ন জায়গা খোঁজ নিয়ে জানা গেছে দুদিন আগে থেকেই সব ছোট ছোট দোকানগুলিতে প্রায় সব ধরনের সিগারেটের সংকট। হাতে গোনা কয়েকটা দোকানে ব্র্যান্ড সিগারেট পাওয়া গেলেও দ্বিগুন দামে তা কিনতে হচ্ছে।
দেখা যায়, বেনসন সিগারেট প্রতি শলাকা নূন্যতম ১৫ থেকে ১৬ টাকা, গোল্ডলিফ ১০ টাকা রাখা হচ্ছে। এভাবে প্রতিটি ব্র্যান্ডের সিগারেটের মূল্য একই হারে বৃদ্ধি করা হয়েছে। অনেক জায়গায় সিগারেটের মূল্য বৃদ্ধিকে কেন্দ্র করে ক্রেতা-বিক্রেতায় বাকবিতণ্ডাও দেখা গেছে।
গাইবান্ধার শহরসহ সাত উপজেলার বিভিন্ন শহরের ছোট ছোট দোকানদারদের অভিযোগ, বাজেটকে কেন্দ্র করে পাইকাররা সুকৌশলে অধিক মুনাফা লাভের আশায় সিগারেটের কৃত্রিম সংকট তৈরি করেছে। যার ফলে খুচরা দোকানদারদের অনেক ঝামেলার শিকার হতে হচ্ছে।
গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার থানা মোড় চৌরাস্তার দোকানদার আব্দুল আলিম নামের এক ক্ষুদ্র সিগারেট ব্যবসায়ী বলেন, প্রায় প্রতি বছরই বাজেট ঘোঘণার সময় হঠাৎ বাজার থেকে সিগারেট উধাও হয়ে যায়।
তিনি বলেন, বাজেট ঘোষণাকে কেন্দ্র করে একশ্রেণির কিছু অসৎ পাইকার অধিক মুনাফা লাভের জন্য সিগারেট আটকে রেখে কৃত্রিম সংকট তৈরি করে। এর ফলে খুচরা দোকানদের উচ্চ মূল্য দিয়ে সিগারেট কিনতে হয়। এ কারণে অতিরিক্ত মূল্যে বিক্রিও করতে হয়।
জাইদুল নামে আরেক সিগারেট ব্যবসায়ী বলেন, তার দোকানে প্রতিদিন ৫০ থেকে ৬০ প্যাকেট নামী দামি ব্র্যান্ডের সিগারেট খুচরা বিক্রয় হয়। এছাড়া অন্যান্য ব্র্যান্ডের সিগেরেটও বিক্রি হয়। বাজেট ঘোষণার দুদিন আগে থেকেই সিগারেটের সংকটে ব্যবসা প্রায় মন্দা।
তিনি বলেন, কিছু দোকানে পাওয়া গেলেও প্যাকেট প্রতি নূন্যতম ৩০ টাকা বেশি ধরা হচ্ছে। যে সিগারেটের প্যাকেট বুধবারও ২২০ থেকে ২২৫ টাকায় কিনেছিলাম। বৃহস্পতিবার ও শুক্রবার সকাল থেকে তা ২৫০ টাকা বা তারও বেশি দিয়ে কিনতে হচ্ছে।
সুমন নামের এক ধূমপায়ী বলেন, বেনসন প্রতিটি সিগারেটের মূল্য ছিল ১২ টাকা করে, কিন্তু বাজেট ঘোষণার দু দিন আগে থেকেই ১৫ থেকে ১৬ টাকা করে কিনতে হচ্ছে। কিছুই করার নেই। কম দিতে চাইলে দোকানদার বলে সিগারেট নেই।
রফিক নামের অপর এক ধূমপায়ী বলেন, এক শ্রেণির প্রতারক বাজেটকে কেন্দ্র করে বাজার থেকে সিগারেট উধাও করে নিয়ে গুদামজাত করে রেখেছে।এখন বাজেটই দাম বৃদ্ধির প্রস্তাব করা হয়েছে এখন তারা অধিক লাভে বাজারজাত করবে। যার ফলে এখন বাজারে সিগারেটের সংকট শুরু হয়েছে।
তবে সিগারেট কোম্পানিগুলোর প্রতিনিধিরা বলছেন, বাজারে সিগারেটের কোনো সংকট নেই। কিছু অসাধু সিগারেট ব্যবসায়ী প্রয়োজনের অতিরিক্ত সিগারেট মজুদ করে কৃত্রিম সংকট তৈরি করছে।২০১৯- ২০২০ অর্থ বছরের ঘোষিত বাজেটে দাম বাড়ানোর প্রস্তাব করা হলেও এখনো দাম বাড়ানো হয়নি এখনো পুরাতন লেভেলের স্টক সিগারেট বাজারে সাপ্লাই হচ্ছে। পরে সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী নতুন রাজস্ব লেভেল সংযুক্ত করে দাম বাড়ানো হবে।

Leave a Reply