Friday , 19 July 2019
এই মাত্র পাওয়া
Home » রংপুর » গাইবান্ধায় লাশ নিয়ে দুই সম্প্রদায়ের দুই স্ত্রীর টানা হেছড়া

গাইবান্ধায় লাশ নিয়ে দুই সম্প্রদায়ের দুই স্ত্রীর টানা হেছড়া

এইচ.আর.হিরু.গাইবান্ধাঃ
গাইবান্ধায় লাশ নিয়ে দুই সম্প্রদায়ের দুই স্ত্রীর টানা হেছড়া। এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি। ঘটনাটি পলাশবাড়ী উপজেলার কিশোরগাড়ী ইউনিয়নের কিশোরগাড়ী গ্রামের নেকট গাড়ী পাড়ায়।

ঘটনার বিবরণে ও এলাকাবাসি সুত্রে প্রকাশ, উপজেলার ঐএলাকার তিলক চন্দ্র রবিদাস তিলক রবিদাসের ছেলে দিলীপ চন্দ্র রবিদাস ( দিলচান) বাংলাদেশ সেনাবাহিনীতে চাকরি নেয়। এক পর্যায়ে সে একই সম্প্রদায়ের গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার ফতুল্লাপুর এলাকার অর্জুন চন্দ্র রবিদাস ( গবরা)’র মেয়ে রাজবসিয়া রানীকে বিয়ে করে সংসার শুরু করে। এই সংসার জীবনে দিলীপ ২ মেয়ে ও ২ ছেলের বাবা। চাকরি করাকালীন দিলীপ চন্দ্র বগুড়া জাহাঙ্গীরাবাদ সেনা ক্যাম্পে দীর্ঘদিন কর্মজীবন অতিবাহিত করেন। এক পর্যায়ে ইরাক- কুয়েত যুদ্ধের সময় আর্মির মিশনে বিদেশ যাওয়ার সুবাধে হিন্দু ধর্ম ত্যাগ করে ইসলাম ধর্ম গ্রহন করে দিলীপ চন্দ্র নাম পরিবর্তন করে মো.আবু বক্কর সিদ্দিক নাম ধারন করে বিদেশে মিশনে যান।
পরে আবু বক্কর সিদ্দিক রংপুর জেলার গঙ্গাচড়া উপজেলার উত্তর পানাপুকুর গ্রামের আব্দুল রাজ্জাকের মেয়ে রুনা লায়লাকে ২য় স্ত্রী হিসেবে বিয়ে করে বগুড়ার জাহাঙ্গীরাবাদ এলাকায় বাসা ভাড়া নিয়ে ২য় স্ত্রীসহ বসবাস করতে থাকেন। আর এসময় আবু বক্কর সিদ্দিক ৩ বার পবিত্র ওমরা হজ্জ্ব পালন করেন। কিন্তু ২য় স্ত্রী ২১ বছরে কোন সন্তানের মা হতে পারেন নি। এদিকে আবু বক্কর সিদ্দিক ২০০৪ সালে অবসর গ্রহণ করেন। অবসরের পর আবু বক্কর সিদ্দিক বেশ কিছুদিন থেকেই অসুস্থ অবস্থায় ছিলেন। গত ২১ এপ্রিল আবু বক্কর সিদ্দিকের হার্ট আ্যটাক করে। তখন ২য় স্ত্রী স্বামীকে বগুড়া সিএমএইচ এ ভর্তি করান।

চিকিৎসা চলাকালীন প্রথম স্ত্রীর ছেলে অমল চন্দ্র রবিদাস ২য় মা রুনা লায়লাকে রহস্যজনক কারনে না নিয়ে গোপনে ধর্মান্তরিত বাবা আবু বক্কর সিদ্দিককে চিকিৎসার জন্য ঢাকায় নেবার পথিমধ্যে ২৮ এপ্রিল গভির রাতে সে মারা যায়।
পরে অমল বাবার লাশ পলাশবাড়ী উপজেলার কিশোরগাড়ী ইউনিয়নের কিশোরগাড়ী গ্রামের নেকটগাড়ী নিজ বাড়িতে নিয়ে আসে।
খবর পেয়ে ২য় স্ত্রী রুনা লায়লা স্বামীর বাড়িতে এসে মুসলিম রীতি অনুসারে কাফন-দাফন ও জানাজা করে কবরস্থ করার দাবী জানান। আর এতে আপত্তি জানায় প্রথম পক্ষের স্ত্রী সন্তানেরা। তারা হিন্দু (রবিদাস) শাস্ত্র অনুযায়ী লাশের সৎকারের ব্যবস্থা করার উদ্যোগ নিলে নানা জঠিলতার সৃষ্টি হয়।

বিষয়টি নিয়ে পলাশবাড়ী উপজেলা নির্বাহী অফিসার মেজবাউল হোসেন, উপজেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি আবু বকর প্রধান,  এলাকার ইউপি চেয়ারম্যান, ওসি (তদন্ত) মতিউর রহমান.থানা পুলিশ সহ গনমাধ্যম কর্মী ও স্থানীয় লোকজন সঠিক সিদ্ধান্তে আসার জন্য আলোচনা চালিয়ে যান।

অবশেষে সব জল্পনা কল্পনার অবসান ঘটিয়ে ২য় স্ত্রী রুনা লায়লাকে স্বামী আবু বক্কর সিদ্দিকের লাশ বুঝিয়ে দেয়া হয়। তিনি স্বামীর লাশ তার এলাকায় নিয়ে ইসলামী বিধান অনুযায়ী জানাজা শেষে দাফন কাফনের ব্যবস্হা করবেন বলে জানান। এসময় মৃত ব্যক্তির বাড়িতে ১ম স্ত্রী ছেলে -মেয়ে সহ এলাকাবাসীর মাঝে এক করুণ দৃশ্যের সৃষ্টি হয়।

Leave a Reply