Friday , 19 July 2019
এই মাত্র পাওয়া
Home » রংপুর » একজন ননী বালা অন্যজন মোনা বিবি॥ কত বয়স হলে ভাতা কার্ড পাবে?

একজন ননী বালা অন্যজন মোনা বিবি॥ কত বয়স হলে ভাতা কার্ড পাবে?


এইচ.আর.হিরু, গাইবান্ধাঃ
গাইবান্ধার সাদুল্লাপুরে কিশামত হামিদ গ্রামের মৃত তৃন কান্তর স্ত্রী ননী বালা (৭০)। অপর জন উপজেলার জামালপুর ইউনিয়নের পাতিল্যা কুড়া গ্রামের মৃত ছয়েস উদ্দিনের স্ত্রী মোনা বিবি (৬৬)। ননী বালার স্বামী মারা গেছেন প্রায় ৩৮ বছর আগে। সন্তান মাত্র একজন নামতার নিখিল চন্দ্র বর্মন। খুব একটা কর্মট না হওয়ায় নিজের স্ত্রী, সন্তানকেই ঠিকমত ভোরন পোষণ দিতে পারে না। সেখানে মা, যেনো তার উপর বোঝা। মা,তা বুঝতে পেরে চলতে না পারলেও দু’লাটির উপর ভর দিয়ে নিজের জীবণ বাঁচাতে বাধ্য হয়েছেন ভিক্ষা করতে। এভাবেই খেয়ে না খেয়েই চলছে তার বয়সের ভারে নুয়ে পড়া শরীর ও জীবণ। শুধু ননী বালার অচল অবস্থার নজরটি ননী বালার নিজের চোঁখেই পড়ছে। এটা হয়তো অন্য কারো নজরে পড়েনি বলেই তার এই অবস্থা। বিষয়টি নিয়ে কথা বললে ঐ এলাকার (কিশামত হামিদ) ইউ.পি সদস্য জাকেরুল ইসলাম জানান, ব্যাপারটি আমি জানি। কিন্তু সে প্রায় সময়ে রংপুরের পীরগাছা উপজেলায় থাকায় আমি কোন ব্যবস্থা নেইনি। কিন্তু জানতে চাইলে ননী বালাতা অস্বীকার করে বলেন আমার কাছে মোটা অংকের টাকা চেয়েছিল। দিতে পারিনি বলেই আমার ভাগ্যে কোন সাহায্যের কার্ড মেলেনি। অপরদিকে মোনা বিবি প্রায় ৪০ বছর আগে স্বামী পরিত্যক্ত হয়ে পিত্রালয়ে বসবাস করে আসছে। এর পর মোনা বিবি তিন মেয়েকে নিয়ে জীবিকার তাগিদে অন্যের বাড়িতে ঝি’র কাজ করে দিনাতিপাত করে। তার কষ্টার্জিত কিছু অর্থ ও স্থানীয়দের সহযোগিতায় দুই মেয়েকে বিয়ে দেন। অপর এক মেয়ে প্রতিবন্ধী এলিজাকে বিয়ে দিলেও স্বামীর সংসার বোঝতো না সে। ফলে সেও স্বামী পরিত্যাক্ত হয়। পরবর্তীতে প্রতিবন্ধী এলিজাকে নিয়ে মোনা বিবি জীবন সংগ্রাম চালিয়ে আসছিলেন। কিন্তু বয়সের ভারে অনেক আগে কর্মশক্তি হারিয়েছেন তিনি। তার পর থেকে মোনা বিবি দুমুঠো অন্নের জন্য মানুষের দ্বারে দ্বারে ভিক্ষাবৃত্তি করে জীবিকা নির্বাহ করে আসছেন। বর্তমানে তিনি অসুস্থ্য অবস্থায় বাড়িতে আছেন। বর্তমান অনেকটা অনাহারে-অর্ধাহারে দিন কাটে ভিক্ষুক মোনা বিবির। অথচ এখনো তার বা প্রতিবন্ধী মেয়ের কপালে জোটেনি বয়স্ক কিংবা বিধবা ভাতা কার্ড।
বেঁচে থাকার জন্য তিনি একটি ভাতা কার্ড চান। ভিক্ষুক মোনা বিবি’র প্রশ্ন আর কত বয়স হলে বয়স্ক ভাতা কার্ড পাব? খেয়ে পড়ে বেঁচে থাকার জন্য শুধু একটা ভাতা কার্ড চাই। মোনা বিবির বর্তমান বাড়ি গাইবান্ধার সাদুল্লাপুর উপজেলার জামালপুর ইউনিয়নের পাতিল্যাকুড়া-চকদাড়িয়া (দক্ষিণপাড়া) গ্রামে। এদিকে মায়ের জীবন বাঁচাতে এখন প্রতিবন্ধী মেয়ে এলিজা মানুষের দ্বারে দ্বারে ভিক্ষা করছেন। কষ্টে জীবন যাপন করলেও এমনি কি পায়নি ১০ টাকার রেশম কার্ড, বিধবা বা বয়স্ক ভাতা কার্ড। তিনি বার বার ইউপি সদস্যদের দারস্থ্য হয়েছেন। কিন্ত কোনো লাভ হয়নি।
এ বিষয়ে জামালপুর ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য আবুল কালাম আজাদ বলেন, মোনা বিবিরি বিষয়ে আমার জানা নেই। বর্তমানে যেটুকু বরাদ্দ ছিল তা অফিসে জমা দেওয়া হয়েছে।

Leave a Reply