Friday , 20 September 2019
এই মাত্র পাওয়া
Home » খুলনা » ৯টায় শুরু ১টায় ফাঁকা সাতক্ষীরা মিশন মাদ্রাসা

৯টায় শুরু ১টায় ফাঁকা সাতক্ষীরা মিশন মাদ্রাসা

সাতক্ষীরা প্রতিনিধি ::

সাতক্ষীরা সদর উপজেলায় অবস্থিত এই প্রতিষ্ঠান। সকাল ৯ টা থেকে ১টা পর্যন্ত। মাত্র চার ঘণ্টা ক্লাস হয়। তবে ক্লাস শেষে শুরু করে কোচিং বাণিজ্য। ছাত্র মাত্র একজন। তাকে ইংরেজি বিষয়ে পাঠ দিচ্ছেন শিক্ষক । এ দুইজন ছাড়া শ্রেণিকক্ষ পুরোটাই ফাঁকা! দৃশ্যটি অভাবনীয় হলেও সত্যি। মঙ্গলবার (১২ ফেব্রুয়ারি) দুপুর সাড়ে ১২ টার দিকে সাতক্ষীরা উপজেলার আহছানিয়া মিশন মাদ্রাসার ৪র্থ শ্রেণী কক্ষে এমন দৃশ্য চোখে পড়ে। পাশেই তৃতীয় শ্রেণীর কক্ষে শিক্ষার্থী ছিল ৫ জন। সেখানে ক্লাস নিচ্ছিলেন সাইফুল আলম নামে এক শিক্ষিক ক্লাসে মাত্র একজন ছাত্র কেন? অন্য শিক্ষার্থীরা কোথায়? এমন প্রশ্নের জবাবে শ্রেণী শিক্ষক বলেন, এ ক্লাসে শিক্ষার্থী মোট ১৪ জন। সাত-আট জন করে প্রতিদিনই ক্লাসে উপস্থিত হয়। গতকাল ছুটি থাকায় আজ সবাই উপস্থিত হয়নি। তবে শুধু একজন ছাত্র এসেছে। তারপরও ক্লাস নেওয়া হচ্ছে। ক্লাসে উপস্থিত একমাত্র ছাত্র মোহাম্মদ আলী জানায়, ক্লাসে ৪/৫ জনের বেশি ছাত্র আসে না। মাঝে মধ্যে দু-একটা ক্লাসও হয় না। এদিকে মাদ্রাসার অফিসে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, মাদ্রাসার ১০ টি শ্রেণিতে মোট ছাত্র-ছাত্রী সংখ্যা ১৬০ জন। এর মধ্যে প্রথম শ্রেণিতে ৫, ২য় শ্রেণিতে ৭ তৃতীয় শ্রেণিতে ৮, চতুর্থ শ্রেণিতে ৯ , ৫ম শ্রেণিতে ১০ , ৬ষ্ঠ শ্রেণিতে ১৭,৭ম শ্রেণিতে ১৩, ৮ম শ্রেণিতে ২২, ৯ম শ্রেণিতে ৮, ১০ম শ্রেণিতে ১৪ জন আলেমের ক্লাসের মোট ছাত্র-ছাত্রীর ৩০জন। এছাড়াও চলতি বছর বিভিন্ন শ্রেণিতে মাত্র ২৫ জন ছাত্র-ছাত্রী ভর্তি হয়েছে। মোট ১৬০ জন শিক্ষার্থীর বিপরীতে ১৮ জন শিক্ষক রয়েছেন। এরপরও শিক্ষার্থীদের ফলাফল আশানুরূপ নয়। গত বছর পিইসি পরীক্ষায় অংশ নেয়া ১৪ জন ছাত্রের সবাই পাশ করলেও জিপিএ-৫ পায়নি কেউই। এ বিষয়ে সহকারী শিক্ষক শহিদুল্লাহ ও সালমা খাতুন বলেন, কয়েক বছর আগে এই মাদ্রাসার ছাত্ররা বৃত্তি পেয়েছে। কিন্তু গত ৩/৪ বছর ধরে রেজাল্ট ভালো হচ্ছে না। অন্য দিকে এলাকাবাসীর অভিযোগ, মাদ্রাসাটির পড়াশোনার মান ভালো নয়। এ কারণে অভিভাবকরা তাদের বাচ্চাদের নিজ গ্রামের মাদ্রাসা বাদ দিয়ে পাশের গ্রামের মাদ্রাসায় পাঠান। এ কারণে মাদ্রাসার শিক্ষার্থীর সংখ্যা অনেক কম। সোহেল রানা নামে এক কলেজ ছাত্র জানান, আমি এক সময় এই মাদ্রাসায় পড়তাম। তখন পড়াশোনার মান ছিল ভাল। ছাত্র-ছাত্রী দিয়ে এই প্রতিষ্ঠান মুখরিত ছিল। এখন পড়াশোনার মান নষ্ট হয়ে গেছে। এ বিষয়ে প্রধান শিক্ষক আব্দুল মজিদের সঙ্গে যোগাযোগ করার চেষ্টা করলে তার ফোন বন্ধ পাওয়া যায়। জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, বিধি মোতাবেক একটি মাদ্রাসায় সর্বনিম্ন ৩০০ জন শিক্ষার্থী থাকার কথা। একজন ছাত্রকে পড়াচ্ছেন একজন শিক্ষক—এটা অবিশ্বাস্য। এমন ঘটনা হলে ওই প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে অবশ্যই ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Leave a Reply