Friday , 15 November 2019
এই মাত্র পাওয়া
Home » ঢাকা » ভোরের ডাক অনলাইন পত্রিকায় সংবাদ প্রকাশের পর সোনালী এখন মায়ের কোলে

ভোরের ডাক অনলাইন পত্রিকায় সংবাদ প্রকাশের পর সোনালী এখন মায়ের কোলে

সোনালী আক্তার

এইচ.আর.হিরু, সাদুল্লাপুর প্রতিনিধিঃ
চোঁখে মুখে উচ্ছল হাঁসি। মায়াবি চেহেরা যেন সদ্য ফোঁটা সাদা গোলাপ। নিষ্পাপ আত্মভোলা আকর্শিত মনোহরণি এক নীরহারা ময়না পাঁখি। নামতার সোনালি খাতুন। কথা বলে আদো আদো। অনেকে মনে করছেন সৎ পিতার নির্যাতনে সে অনেকটা বাকরোধ হয়ে গেছে। তার আদো কথায় জানা যায় বাড়ী তার ঢাকার অদুরে গাজীপুর জেলার জয়দেবপুর উপজেলায়। তার জন্মদাতা পিতার নাম আনছার আলী। কিন্তু সোনালির পিতার অকাল মৃত্যুতে তার মা আসমা বেগম শিশু সন্তান কে কোলে নিয়েই আব্দুর রহমান নামক ব্যক্তির নিকট দ্বিতীয় বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন। প্রথম দিকে আব্দুর রহমান স্ত্রী ও সোনালির সহিত ভাল ব্যবহার করলেও পরে শিশু সন্তান টির সাথে শারিরীক ও মানুষিক নির্যাতন শুরু করলে মেয়টি অনেকটা মানষিক ভারসাম্য হারিয়ে ফেলে। এক পর্যায়ে এই নির্যাতনের হাত থেকে রক্ষা পেতে বাড়ী ছেড়ে পালিয়ে ট্রেনে চরে গাইবান্ধার জেলার সাদুল্লাপুর উপজেলার নলডাঙ্গায় আসে। তার কান্না কাটি দেখে এলাকার বীর মুক্তিযোদ্ধা দেলোয়ার হোসেন সোনালিকে নলডাঙ্গার ইউ.পি চেয়ারম্যান তরিকুল ইসলাম নয়নের হেফাজতে দেন। পরে চেয়ারম্যান পরিষদ সদস্য ও সুধিজনদের সাথে পরামর্শ করে সংরক্ষিত দশলিয়া গ্রামের মহিলা সদস্য লিপি বেগমের জিম্মায় রাখেন। সেখানে থাকা অবস্থায় সর্বাধিক প্রচারিত অনলাইন পত্রিকা ভোরের ডাকে সংবাদ প্রকাশিত হলে বিভিন্ন মাধ্যমে সংবাদ পান সোনালির গর্ভধারি মা আসমা বেগম। ১৮ দিনের মাথায় ছুটে আসেন নলডাঙ্গায়। মঙ্গলবার দিন শেষে রাতে সোনালী ফিরে যান মায়ের সাথে। তার আগে সোনালির মা আসমা জানান লম্পট স্বামীর চরিত্রের ভয়ংকর কাহিনি। আব্দুর রহমান নামের ঐ নরপশু ৫টি স্ত্রী রেখেও সোনালির মত নিষ্পাপ এই শিশুটির প্রতি চালান দিনের পর দিন বিক্রিত যৌনচার। যা পরে শিশু সোনালিও অকপটে স্বীকার করে জানান স্থানীয় চেয়ারম্যান, মেম্বার, সুধিমহলসহ সাংবাদিকদের। এব্যাপারে আইনি ব্যবস্থা গ্রহনের কথা জানান সোনালির মা আসমা বেগম। ইউ.পি সদস্য জানান এনিয়ে তার উপর শুরু হয়েছিল পরিবারের নানা মুখিচাপ। এখন কি হবে সোনালির। কোথায় পাবে সে নিরাপদ আশ্রয় সেটাই ছিল তার ভাবনা। জানা গেছে সোনালি তেজগাঁও আলিয়া মাদ্রাসায় সপ্তম শ্রেণিতে পড়াশুনা করত। সোনালীর বিদায়ের সময় উপস্থিত ছিলেন নলডাঙ্গা ইউ.পি চেয়ারম্যান তরিকুল ইসলাম নয়ন ও সর্বস্থরের লোকজন।

Leave a Reply